1. admin@agrajatrabd.news : admin :
বিজ্ঞপ্তিঃ-
জেলা-উপজেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে যোগাযোগ ০১৩ ০৯ ৩২ ৩২ ৮১
শিরোনাম
হাইমচর জমিন সংক্রান্ত বিরাধ নিরীহ পরিবারর উপর হামলা\ আহত ৩ সোনাইমুড়ীতে কৃষকলীগের বিজ বিতরণ বাংলাদেশ হেলথ্ এ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যােগে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত বাদল রায়ের মৃত্যুতে ঝিনাইদহে শোকসভা মিয়ানমার কক্সবাজারের ৯ জেলেকে ফেরত দিল। জাতীয় শ্রমিক লীগ হরণী ইউনিয়ন শাখায় নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। সিলেট-ভোলাগঞ্জ রোডে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা ছাতকের মাস্ক ব্যবহার না করায় জরিমানা সুনামগঞ্জে আদালতের ব্যতিক্রম রায়ে জোড়া লেগেছে ৪৭ টি সংসারে খুলনার দাকোপে নবাগত ইউ,এন, ও “মিন্টু বিশ্বাসে’র” কর্মস্থলে যোগদান।

থানার সামনেই প্রতারণার অফিস! অগ্রযাত্রা’র তৎপরতায় র‌্যাবের অভিযান

  • Update Time : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৯৯ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টঃ মনিরুজ্জামান মনির ও মৃনাল কান্তি রায় –

ব্যস্ততম মহাসড়কের এক পাশে আশুলিয়া থানা ভবন ঠিক তার ওপর পাশেই পাঁচতলা একটি ভবন। যার নাম বিশ্বাস টাওয়ার। আশুলিয়া থানার ঠিক সামনে এই ভবনটির ৫ম তলাতেই চলতো সোনার হরিণ চাকরি দেবার নামে বেকারদের টাকা হাতিয়ে নেবার অভিনব প্রতারণা। মাস ছয়েক আগে কুখ্যাত প্রতারক তফিজউদ্দিন ওরফে সবুজ ওরফে তৌফিক ওরফে সবুজ শাহী আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভবনটি ভাড়া নেয়। ভবন মালিকের কাছে সে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর মরহুম স্বামী ড.ওয়াজেদ মিয়ার ভাতিজা ও বড় শিল্পপতি, সাংবাদিক, এবং রংপুরের বড় রাজনৈতিক নেতা বলে পরিচয় দেয়। মূলত তার এ অফিসটিতে চলতো বহুমুখী প্রতারণার রমরমা ব্যবসা। সরকারি চাকরি দেয়া, সিকিউরিটি গার্ডে চাকরি দেয়া, টিভি চ্যানেল কিংবা জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক বানিয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কমিটির পদ পাইয়ে দেবার কথা বলে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাকরির খোঁজে আসা বেকার কিংবা সহজ সরল যুবক যুবতীদের সর্বশান্ত করে আসছিলো প্রতারক সবুজ শাহী ও তার প্রশিক্ষিত দালালেরা। আশুলিয়া থানার ঠিক সামনের ভবনে এতোবড় প্রতারকের ঘাটি থাকলেও তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ। প্রতারক সবুজ শাহী স্বদর্পে চালিয়ে গেছেন তার প্রতারণার লীলাখেলা। এমনকি তার এই অফিসটিতে নিয়মিত আড্ডা দিতে আসতেন স্থানীয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিক,রাজনৈতিক নেতা সহ আরো নানান পেশার লোকজন। অবশেষে গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ঠিক ২ টায় অনুসন্ধানমূলক জাতীয় পত্রিকা অগ্রযাত্রা’র ক্রাইম রিপোর্টারদের দেয়া তথ্যানুযায়ী সবুজ শাহীর প্রতারণার কেন্দ্রস্থল খ্যাত এ ভবনটিতে হানা দেয় র‌্যাব-৪ এর একটি দল। র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার উনু মংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে যুবকদেরকে চাকরি দেবার নামে ভুয়া ইন্টারভিউ বোর্ড বসিয়ে টাকা নেবার সময় হাতে নাতে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক সবুজ শাহীর ৮ সহযোগীকে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে আটককৃত সহযোগীরা তাদের অফিসে কোন প্রতারণা হয়না এবং এটি সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বলে জানালেও তাদের দেখানো ভুয়া অনুমতি পত্র সনাক্ত করে র‌্যাব। অফিসজুড়ে পাওয়া যায় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত অসংখ্য আলামত। দেখা মেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে চাকরি নিতে এসে প্রতারণার শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন যুবকেরও। অবশেষে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পুরো অফিসটি সিলগালা করে দেয় র‌্যাব। জব্দ করা হয় প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ভুয়া নিয়োগপত্র, ভুয়া চুক্তিপত্র,ভুয়া লাইসেন্স, ওয়াকিটাকি, মেটাল ডিটেক্টর, টেলিভিশনের লোগো, পত্রিকার নাম সংবলিত টি শার্ট,আইডি কার্ড, মনিটর,ব্যাংক চেকসহ নানান আলামত। এসময় সবুজ শাহীর প্রতারণার কাজে সহায়তাকারী ৮ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। আটককৃত ৮ জন হলেন- ভুয়া এসডি সিকিউরিটির কথিত ম্যানেজার রমজান আলী রাজু(৪৯), কথিত ক্যাশিয়ার ইউনুছ আলী(৫১), কথিত সহকারী ম্যানেজার কাজী শিলন(৩৫), আশরাফুল আলম(৫২), আলামীন হোসেন(২২),রফিকুল ইসলাম(৫০),সোহাগ কবির(২২), এবিএম মাহবুবুর রহমান(৪০)।

পরবর্তীতে আটককৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে সহযোগীরা আটক হলেও পলাতক রয়েছে এই প্রতারণা কারবারের মূল হোতা সবুজ শাহী। তার আটককৃত সহযোগীরা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় প্রতারক সবুজ শাহী অফিসে খুব কম আসেন। মোবাইল নির্দেশনা দিয়ে ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে প্রতারণা কার্যক্রম চালায় সে।

মূলত গত ৪ মাস আগে এই কুখ্যাত প্রতারক সবুজ শাহীর দেশব্যাপী প্রতারণা কার্যক্রমের সন্ধান পায় অনুসন্ধানমূলক জাতীয় পত্রিকা অগ্রযাত্রা’র এন্টি ক্রাইম ইউনিটের সাংবাদিকরা। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নেবার পাশাপাশি এসডি টিভি ও দৈনিক জয় সংবাদ নামে দুটি সম্পূর্ণ ভুয়া মিডিয়ায় সাংবাদিক বানানোর নামে দেশজুড়ে অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো সে। অগ্রযাত্রা পত্রিকার প্রিন্ট, অনলাইন, ও ভিডিও সংস্করণে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অগ্রযাত্রা’র কাছে সবুজ শাহীর দ্বারা ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের ফোন আসতে থাকে। তা থেকে জানা যায় এই কুখ্যাত প্রতারক এর আগে চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকায় সিকিউরিটি গার্ড কোম্পানির ভুয়া অফিস খুলে ১৯০ জন যুবককে সিকিউরিটি গার্ডে চাকরি দেবার কথা বলে জামানত ও পোশাক খরচ বাবদ জনপ্রতি ৫০০০ টাকা করে নেয়। পরবর্তীতে কোন চাকরি না দিয়ে হঠাৎ অফিসসহ উধাও হয়ে যায় প্রতারক সবুজ শাহী ওরফে তৌফিক। আরো জানা যায় ২০১৯ সালে একই ভাবে রংপুর সদরে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে নিজেকে সরকারি ঠিকাদার ও সাবেক সচিব পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনকে সরকারি চাকরি দেবার কথা বলে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিস ফেলে উধাও হয়ে যায় সে। একইভাবে লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম, ঢাকায়ও ভুয়া অফিস খুলে সহজ সরল চাকরি প্রার্থীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে সবুজ শাহী ওরফে তফিজউদ্দিন। প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে সে মূলত বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে তোলা ছবি ফেসবুকে প্রচার করে বেড়ায়, সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। বাংলাদেশে বোকারত্বের হার বেশী হওয়ায় সহজেই অসংখ্য বেকার যুবক তার ফাঁদে পা দিয়ে বসে। অনুসন্ধানমূলক জাতীয় পত্রিকা অগ্রযাত্রা’র সক্রিয় তৎপরতায় এ পর্যন্ত নরসিংদী থেকে র‌্যাব-১১ এর অভিযানে ২জন বরিশাল থেকে র‌্যাব-৮ এর অভিযানে ১ জন,কুমিল্লা থেকে জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে ১জন ও সর্বশেষ ঢাকার আশুলিয়া থেকে র‌্যাব-৪ এর অভিযানে প্রতারক সবুজ শাহীর প্রতারণার সক্রিয় ৮ জন সহযোগীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হলেও বারবারই হাত ফসকে গেছে ধুরন্ধর প্রতারক সবুজ শাহী। অগ্রযাত্রা’র অনুসন্ধানে জানা গেছে- সবুজ শাহীর আসল নাম মোঃ তফিজউদ্দিন, তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়, ২০১১ সালে একটি স্বশস্ত্র বাহিনী থেকে কোন কারণে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রতারণার ব্যবসা শুরু করেছেন তিনি। নিজের গ্রামের বাসিন্দাদের সাথেও প্রতারণা করার কারণে গ্রামেও যান না তিনি৷ অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে এ পর্যন্ত ৭ টি বিয়ে করেছেন তিনি। সর্বশেষ নওগাঁর এক গার্মেন্টস কর্মী মেয়ের সাথে সংসার করছেন প্রতারক সবুজ শাহী। প্রতারণা,নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সারাদেশের বিভিন্ন থানায় সবুজ শাহীর নামে ১৮ টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ মহাপ্রতারককে হন্য হয়ে খুঁজছে দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাসংস্থাগুলো। এজন্য জনতার সহযোগিতাও চেয়েছেন তারা। প্রতারক তফিজউদ্দিন ওরফে সবুজ শাহী ওরফে তৌফিক কর্তৃক প্রতারিত হওয়া ভুক্তভোগীদের দাবি অনতিবিলম্বে তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় এমন ধুরন্দর প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হবে আরো অনেকেই।

এ ব্যাপারে ২০ আগস্ট আশুলিয়ায় সবুজ শাহীর আস্তানায় পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্বে থাকা র‌্যাব-৪, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার উনু মং অগ্রযাত্রা কে বলেন- প্রতারক সবুজ শাহী বহুমুখি প্রতারণার সাথে যুক্ত দুধর্ষ এক প্রতারক। তাকে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা র‌্যাবের পক্ষ থেকে অব্যাহত রয়েছে। এ জাতীয় প্রতারণার বিরুদ্ধে র‌্যাব বরাবরই তৎপর রয়েছে।

অনুসন্ধানমূলক জাতীয় পত্রিকা অগ্রযাত্রা’র সম্পাদক ও অনুসন্ধান বিভাগের প্রধান মেহেদী হাসান অর্নব এ ব্যাপারে বলেন- প্রতারক সবুজ শাহী এ নিয়ে ৩য় বারের মতন নিশ্চিত ধরা পড়ার হাত থেকে ফসকে গেলো। সে নতুন করে আবারো কোন না কোন প্রতারণা শুরু করবে বলেই ধারণা করছি। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিনব ফাঁদ পাতে। এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। অগ্রযাত্রা’র পক্ষ থেকে যেকোন অপরাধ দমনে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৪৫৫,০৯১
সুস্থ
৩৬৯,৪৯২
মৃত্যু
৬,৪৯৬
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,২৯২
সুস্থ
২,২৭৪
মৃত্যু
৩৭
স্পন্সর: একতা হোস্ট
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব