1. admin@agrajatrabd.news : admin :
বিজ্ঞপ্তিঃ-
জেলা-উপজেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে যোগাযোগ ০১৩ ০৯ ৩২ ৩২ ৮১
শিরোনাম
সিলেট এমসি কলেজে গণধর্ষণ: ডিএনএ রিপোর্টে সংশ্লিষ্টতা মিলেছে আসামিদের ছাতকে ভুয়া ইউএনও সেজে চলছে প্রতারণা বঙ্গবন্ধু কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ পরিষদ বাংলাদেশ এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মানববন্ধন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে হুইল চেয়ার প্রদান করলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জমি দখলের ঘটনায় নিহত চকরিয়া উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রংপুরে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির ক্যামেরা পারসনের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের অবস্থান ধর্মঘট বসত বাড়ি তল্লাশী করে ৮৫ ভরি স্বর্ণসহ মোটর সাইকেল ও মিয়ানমার টাকা উদ্ধার টেকনাফে। ‘ফেসবুক’হতে পারে জনসম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম- পুলিশ সুপার, নোয়াখালী রংপুরে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ’র মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

ঝালকাঠিতে ভাসমান পেয়ারার হাটে ক্রেতা-পাইকার কম আসায় বিপাকে চাষী ও ব্যবসায়ীরা, ৫ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা

  • Update Time : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ
ভাসমান পেয়ারা হাট থেকে ফিরে থাইল্যান্ডের ফ্লটিং মার্কেট কিম্বা কেরালার ব্যাক ওয়াটার ডিপের মত ঝালকাঠির পেয়ারা, আমড়া, লেবু কিম্বা স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত শাক-সব্জী ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সদর উপজেলার ভীমরুলীতে ভাসমান হাট। সারা বছরই এ হাট থাকে ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম থাকতো। বিশেষ করে পেয়ারার মৌসুমে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ভীড় জমান এ হাটের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু এবছর করোনার প্রভাব পড়েছে দেশের বৃহত্তম ভাসমান এই হাটের উপর। পাওয়া যাচ্ছে না পাইকার উৎপাদিত পেয়ারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। ফলে এ মৌসুমে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে প্রনোদনা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র বলছে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী নদীর উপর গড়ে ওঠা ভাসমান হাটে পেয়ারা, আমড়া, লেবু ছাড়াও বারো মাস নিজেদের উৎপাদিত কৃষি পন্য বেচা-কেনা করেন এই অঞ্চলের কমপক্ষে ২০ টি গ্রামেরও বেশি কৃষকরা। তবে পেয়ারার মৌশুমকে কেন্দ্র করে আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বাজারটি থাকে সরগরম। ক্রেতা-বিক্রেতা ছাড়াও দেশী-বিদেশী অসংখ্য পর্যটকে ঠাসা থাকে হাট এবং আশে-পাশের পেয়ারা বাগান। বন্ধু-বান্ধব,আত্বীয়-স্বজন কিম্বা পরিবার-পরিজন নিয়ে দলে-দলে আসে ভাসমান এ হাটের আপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অনেকে পিকনিক করতেও আসেন। বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি সদর, বানারিপাড়া ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার চারটি ইউনিয়ন জুড়ে রয়েছে প্রায় তিনশ বছরের পুরানো বিশাল সুমিষ্ট দেশী পেয়ারা বাগান। চাষীরা ছোট-ছোট নৌকায় করে বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে হাটে নিয়ে আসে, আর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা তা কিনে ট্রলার কিম্বা ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন মোকামে নিয়ে যায়। এ বছর করোনার প্রভাবে পাইকার,পর্যটক কোনটাই তেমন আসছেনা। ফলে একদিকে যেমন বিপাকে পরেছে চাষীরা,অন্যদিবে পর্যটকদের বাগানে ঘুরিয়ে আনন্দ দেয়ার কাজে ব্যাবহৃত ইঞ্জিন চালিত নৌকাগুলো অলস পড়ে থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে মাঝিরা পার্কটিও বন্ধ থাকায় হতাস এর উদ্যোক্তারা। প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি পেয়ারা চাষের জন্য দেশে-বিদেশে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে ঝালকাঠি। কয়েক দশকে পেয়ারা সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ঝালকাঠির উন্নয়নে পেয়ারার সম্ভাবনা নজর কেড়েছে সরকারেরও। জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের তালিকায় জায়গা পেয়েছে বাংলার আপেল খ্যাত ফলটি। জেলায় পেয়ারার আবাদ বাড়ানো ও উৎপাদিত পেয়ারা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পরিকল্পনা। ‘পেয়ারা আর শীতলপাটি, এ নিয়ে ঝালকাঠি’- শ্লেøাগানের মধ্যদিয়ে পেয়ারার উৎপাদন ও বিক্রি ১০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য পূরণে পেয়ারার জাত সংরক্ষণ, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত চাষ ব্যবস্থার বিকাশে চাষিদের প্রশিক্ষণ, নতুন নতুন বাগান সৃজন, পেয়ারা সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি এখানকার পেয়ারা শুধু ফল হিসেবে বিক্রি না করে জ্যাম-জেলিসহ বিকল্প পণ্য তৈরির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। স্থানীয়রা জানান, ঝালকাঠির পেয়ারার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, নীতিমালা ও উদ্যোগ। এ বছর করোনার কারণে পাইকার আসছেন না। জলবায়ু পরিবর্তনে দেরিতে ফলন এবং অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। আসছে না দেশি-বিদেশি পর্যটকও। তাই এ বছর দামও অনেক কম। প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২৫০ টাকায়। দাম নিয়ে হতাশ পেয়ারা চাষিরা। সদর উপজেলার কীর্তিপাশা, গাভারামচন্দ্রপুর ও নবগ্রাম ইউনিয়নকে ঘিরে জেলার পেয়ারা চাষ বিকাশ লাভ করেছে। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, প্রতি মৌসুমে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রায় ১০ হাজার কেজি। সেই হিসাবে এক মৌসুমে ঝালকাঠিতে প্রায় ৭৫ লাখ কেজি পেয়ারা উৎপাদন হয়। জেলায় স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরী ও চায়না জাতের পেয়ারা চাষ হয়। এ সময়ে জেলার আশপাশের প্রায় ৩০ গ্রামের পেয়ারা বাগানে চাষিদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। পেয়ারা চাষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী ভাসমান হাটের নাম। নৌকায় করে পাকা পেয়ারা নিয়ে ট্রলারে থাকা পাইকারদের সাথে দর কষাকষি করে পছন্দমতো মূল্য পেলেই বিক্রি করে দেন চাষিরা। ভীমরুলী হাটের পেয়ারা বিক্রেতা গৌতম মিস্ত্রি বলেন, ‘এ সময় ভীমরুলী খালে জমে ওঠে ভাসমান পেয়ারার বাজার। ৫০-৬০ বছর আগে থেকে প্রতি মৌসুমে এ হাট বসছে। হাটটি দেশে-বিদেশে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বেড়েছে বেচাকেনা। ঝালকাঠির পেয়ারা পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। সবে নতুন পেয়ারা হাটে আসতে শুরু করেছে। বেচাকেনা চলবে আরও এক-দেড় মাস। শুরুর দিকে বেচাকেনা কম হলেও এক মৌসুমে প্রায় ২ কোটি টাকার পেয়ারা বেচাকেনা হয়।’ ভীমরুলী হাটের ২ কিলোমিটার দূরে ইকো রিসোর্ট ব্যবসা করছেন অনুপ হালদার। তিনি জানান, ভীমরুলী হাট ঘিরে আশেপাশে এলাকায় গড়ে উঠছে রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্র। এতে পর্যটকের ভিড়ে অনেক সময় হাটের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। পর্যটকবাহী ট্রলারের ভিড়ে পেয়ারা বোঝাই নৌকাগুলো ভিড়তে সমস্যায় পড়ে। পর্যটকরা পেয়ারা বাগানে ঢুকে যান। ফল পাড়েন। এতে বাগানের গাছ ও ফল নষ্ট হয়। তবে আমরা চাই না পেয়ারা বাগান ও হাটে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ করতে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ভাসমান বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই: ভাসমান হাটে শাক-সবজি ও ফলমূল বিক্রি হয়। সম্প্রতি ভাসমান এ বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু হয়েছে। ফলে চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল নৌকায় করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি করতে পারবেন। এতে থাকবে পেয়ারা, আমড়া, পেঁপে, কলা, কাঠাল, আনারস, লেবু, কাকরোল, মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফল-মূল। জানা যায়, মহামারী করোনায় মহাসংকটে পড়েছে ঝালকাঠির এ ভাসমান হাট-বাজার। কৃষিপণ্যের পাইকার না থাকায় উৎপাদিত সবজি আর ফল-মূল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৪৬২,৪০৭
সুস্থ
৩৭৮,১৭২
মৃত্যু
৬,৬০৯
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
১,৭৮৮
সুস্থ
২,২৮৭
মৃত্যু
২৯
স্পন্সর: একতা হোস্ট
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব