1. admin@agrajatrabd.news : admin :
বিজ্ঞপ্তিঃ-
জেলা-উপজেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে যোগাযোগ ০১৩ ০৯ ৩২ ৩২ ৮১
শিরোনাম
বিশ্বনাথে মাদ্রাসাছাত্রকে ‘বলাৎকার’, যুবক গ্রেপ্তার সিলেট মুরারি চাঁদ কলেজে গণধর্ষণ মামলার চার্জশিট দাখিল র‍্যাব-৮ কর্তৃক বরগুনা জেলার সদর থানায় ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা বগুড়ায় ডিভাইসসহ অনলাইনে জুয়া পরিচালনাকারী গ্রেফতার র‍্যাব-৮ কর্তৃক বরগুনা জেলার সদর থানায় ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্র একজন সফল ইমরান খানের গল্প স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বানিজ্য বরদাস্ত করা হবেনা, ওবায়দুল কাদের নরসিংদীর বেলাবতে উপজেলা চেয়ারম্যান সমশের জামান ভূইয়া রিটন কর্তৃক দুই ভাইস চেয়ারম্যানের ভাতা আত্মসাৎ “ইকরা মডেল একাডেমি ” এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। টাঙ্গাইলের বাসাইলে অটোরিক্সার চাপায় মাদরাসা ছাত্রী নিহত

আমরা কি আসলেই মানুষ?

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
  • ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ গালিব ইশরাক ইমরান-

মানব সৃষ্টির সূচনালব্ধ থেকেই “মানুষ মানুষের জন্য” কথাটি চিরন্তন সত্য। আর প্রাণীকূলের মধ্যে নিঃসন্দেহে আমরাই সেরা। তার মানে আমাদের মাঝে এমন কিছু গুণাবলি রয়েছে যার দরুন আমরা অন্যান্য প্রাণীকূলের থেকে ভিন্ন। আমাদের সঙ্গে নিশ্চয়ই কোনো অবলা চতুষ্পদ প্রাণীর তুলনা চলে না। আমরা নিশ্চয়ই তাদের থেকে অধিক বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন। কিন্তু সেই আমরাই কী করে পারছি “মানুষ” নামক শব্দটিকে অসম্মান করতে? একবারো কি আমাদের বিবেকে বাধছে না নিজেদেরকে নানান কুকর্মে ফেলে দিতে? পদে পদে মানবতার বিপর্যয় ঘটাতে? স্বার্থ হাসিলে আমরা যেকোনো কিছুই করতে রাজি। নিজের ক্ষুদ্র ইচ্ছাটাকেও বলি দিতে চাই না। তাহলে কী করে আমরা নিজেদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ বলে দাবি করি? মনুষ্যত্ব বোধের পরিমাণটা কি আমরা কখনো যাচাই করে দেখেছি? আর যখন যাই কিছু করেছি সেটা কতটা নিজের মন থেকে করেছি? জানি এমন প্রশ্নগুলো নিয়ে অনেকেই অনেকভাবে ব্যাখ্যা দাড়া করাবে। যুক্তি দিয়ে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে চাবে, তর্ক করে মজলিস কাঁপিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। কিন্তু এগুলাই কি সব? তর্কে জিতলে অন্যের কি লাভ? সেখানেও নিজের স্বার্থই পূরণ হচ্ছে। এভাবে বলতে গেলে অবশ্য বলে শেষ হবে না। অবক্ষয় শব্দটার প্রয়োগ সব জায়গাতেই হচ্ছে। কেউ প্রকাশ করছে আবার কেউ চুপ থেকে সব মাথা পেতে সহ্য করে নিচ্ছে। অস্তিত্বের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছে না। সম্প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ক্ষেত্রে আমরা কিছু অসম্ভব দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। সেটা হচ্ছে জিনিসের দাম বাড়লে বহুদিন আগের মজুদকৃত জিনিসের দাম সেকেন্ডে কয়েক গুণে বেড়ে যায়। অথচ জিনিসের দাম কমে গেলে পুরাতন ও নতুন মজুদকৃত জিনিসের দাম এক মাসেও কমে না। একই অজুহাত চলে পূর্বের মজুদ এবং বেশি দামে কেনা এই সব বলে। অথচ জিনিসের দাম বাড়লে পূর্বের কম দামে মজুদকৃত জিনিসের দাম কমানোর কোনো চিহ্নই থাকে না। বরং নতুন মজুদ এবং ক্ষতিতে বিক্রি করতে হচ্ছে এমন মিথ্যা অজুহাত চলে। অধিক লাভ ছাড় দেয় না কোনো অপ্রস্তুত মুহূর্তকে, ছাড় দেয় না কোনো মহামারীকে। আমরা বরাবরই শিক্ষার অভাব কিংবা মূর্খতাকে দোষ দেই। আচ্ছা একজন মূর্খ পাইকারি বা খুচরা ব্যবসায়ী যে স্বাচ্ছন্দ্যে তার নিজ ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি কি জানেন না কীভাবে লাভ করতে হবে? কীভাবে জিনিস মজুদ করতে হবে? কীভাবে ক্রেতার কাছে ভালো থাকতে হবে? নিশ্চয়ই জানেন। সে যদি মূর্খই হতো তাহলে সে এমনটা কি বুঝতে পারতো কখনো? তাহলে তার কিসের অভাব? মূল্যবোধের নিশ্চয়ই। এবার আপনি কাকে দোষ দিবেন? আবারো শিক্ষাকে। কিন্তু এবার দায়ী করবেন পরিবারের শিক্ষাকে। কারণ এখানে আমরা নিজেরাও নিশ্চিত যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব এক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। এক্ষেত্রে অভাব হচ্ছে মূল্যবোধের যার জন্য আমরা দায়ী করছি তার নিজ বংশকে। আসলেই কি তাই না? এবার আসি কিছু যুক্তিতর্কে। আমি আমার এই ক্ষণিকের সময় দেখেছি অনেক উচ্চপদস্থ এবং উচ্চশিক্ষিত পরিবারকে যাদের সন্তান মনুষ্যত্ববোধ শিখেনি। নিজ থেকে মনের অজান্তেই গ্রহণ করেছে পশুত্বকে। এবার আমরা নিশ্চয়ই দোষ দিবো তার সঙ্গীদেরকে এবং তার সঙ্গীদের পরিবারকে। আচ্ছা এমনটা কী শুনেছেন? গোবরে পদ্মফুল বাগধারাটার মতন। অসংখ্য মন্দের মাঝে ভালো কিছুর জন্ম। অনেক অশিক্ষিত পরিবারের সন্তানদের দেখেছি অনেক বড় কোনো পদে অধিষ্ঠিত হতে। তাহলে তারা কীভাবে পারে মূর্খতার গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ পদে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে? এখানে নিশ্চয়ই কেউ বলতে পারেন সেকোনো ভালো সঙ্গের সন্ধান পেয়েছে অথবা তার আত্মীয়স্বজন কেউ ভালো অবস্থানে আছে বিধায় এমনটা সে করতে পেরেছে অথবা কেউ থাকে উৎসাহ দিয়েছে। ধরে নিলাম এমনটাও হতে পারে। এবার আসি উচ্চপদস্থ পরিবারের গল্পে। আমি ধরে নিলাম সেই উচ্চ বংশীয় ছেলেটি খারাপ সঙ্গের পাল্লায় পড়েছে। প্রত্যহ মিলামিশা করে সে খারাপ কিছুর অনুশীলন করেছে। কিন্তু তার সেই খারাপ সঙ্গ কি তাকে খারাপ হয়ে যেতে বাধ্য করেছে? নাকি তাকে খারাপ হয়ে যাবার জন্য হুমকি দিয়েছেন। নিশ্চয়ই না। একটা পরিবার যতটাই উচ্চমানের অথবা নিম্নমানের হোক না কেন কোনো পরিবারই তার আদরের সন্তানকে মানবতার অবক্ষয় ঘটুক এমন কোনো শিক্ষা দেয় না। শিক্ষাটা যা পায় তা নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য পায়। মূখ্য কিংবা গৌণ ভূমিকা এখানে তার কাছে কিছু না। একজন মানুষের বোধ শক্তি আসার পর সে তার নিজের প্রশিক্ষক হয়ে যায়। অন্য সব শেখার মাধ্যমসমূহ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। প্রভাবক সম্বন্ধে নিশ্চয়ই আমরা সবাই জানি যে প্রভাবক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে না কিন্তু প্রভাবক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উপস্থিতি থেকে বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি বা হ্রাস করে। একেক প্রভাবকের কাজ একেক রকম। কোন প্রভাবক কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উপস্থিত থাকবে সেটা নির্ভর করে নির্দিষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়ার উপর। একজন বোধসম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রেও তাই হয়। তার স্বাচ্ছন্দ্যমতো সে কাকে তার আদর্শ মানবে সেটা তার চিন্তাধারা এবং ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। তার কর্মক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। যা করতে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সে তাই করে। কিন্তু আমরা সবসময়েই এখানে শিক্ষা এবং পরিবারকে দায়বদ্ধ করি। আসলে ব্যাপারটা তা না। ১৮ বছর বয়স হয়ে যাবার পর একজন মানুষ তার নিজ পথ চলার মাধ্যম বুঝে যায়। সে ভালো মন্দের তফাত বুঝতে পারে। সে তার মনের মতো সবকিছু করে এবং জেনে বুঝেই করে। পরিস্থিতি এবং ইচ্ছাশক্তি এই দুইটা জিনিস অনেক সময় তার জানা জিনিসগুলোকে অজানা করে দেয় সাময়িক সময়ের জন্য। হুশ আসতে দেরি হয়ে যায়। এখন ধরুন আপনি অনেক ভালো একজন মানুষ। নিশ্চয়ই আপনি এমন কোনো কর্মকে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যে নিয়েছেন যা আপনাকে সকলের কাছে ভালো একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। পক্ষান্তরে যিনি খারাপ মানুষ তিনি হয়তবা এমন কিছু কুকর্মকে নিজের আয়ত্তে এনেছেন যার জন্য সকলেই তাকে খারাপ চোখে দেখছে। তাহলে ব্যাপারটা কি আপনার রুচিবোধ অথবা মনুষ্যত্ববোধের উপর নির্ভর করছে না? একজন মানুষ তখনই পরিপূর্ণ মানুষ হয় যখন তার মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ অথবা মানবতাবোধ জাগ্রত হয়। অন্যথায় সে হয়ে যায় পশু। অর্থাৎ, সবকিছুর অন্তরালে লুকায়িত থাকে মনুষ্যত্ব৷ যার জন্ম ঘটে নিজ থেকেই। আপনি যে কাজ করেন না কেন তার দায়ভার আপনাকেই বহন করতে হবে। তার জন্য অন্য কোনো কিছু দায়ী নয়। কারণ আপনি যদি কোনো কিছু দ্বারা আকৃষ্ট হন তা আপনার স্বজ্ঞানেই হয়েছেন। সেটার ভূমিকা প্রভাবকের মতো। ধরলাম আপনি একজন খুচরা বিক্রেতা। মহামারী চলাকালীন সময় জিনিসপত্রের দামের এমন উর্ধ্বগতি এর জন্য আপনি কাকে দায়ী করবেন? পাইকারদের? আচ্ছা আপনি যদি তাদের থেকে জিনিসটা না কিনতেন বা অন্যদেরকেও অধিক দামে কিনতে বাঁধা দিতেন তাহলে কি সেই পাইকার এভাবে করে দুর্নীতি করার সুযোগ পেতো? প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ন্যায্য দাম এত অধিক কেন হবে? উৎপাদন যেখানে সচল রয়েছে। তার মানে নিশ্চয়ই এক শ্রেণির মানুষ অধিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এমনটা করছে। এমন মহামারীতে কত মানুষ খেয়ে না খেয়ে আছে। বেকার হয়ে আছে। সেখানে তাদের জন্য আর কিছু করা যাক আর না যাক তারা যাতে ন্যায্য দামে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় এবং অপরিহার্য দ্রব্যগুলো পায় সেদিকটা কি খেয়াল রাখাটা উচিত ছিলো না? পাঁচ টাকা খুচরা মূল্যের একটা মাস্ক কেন বিশ থেকে ত্রিশ টাকায় বিক্রি হবে? যেখানে উৎপাদন এবং আমদানি সচল। এর কারণ হচ্ছে সেই জিনিসটা অপরিহার্য। বিক্রেতারা ভালো করেই জানে মাস্ক যত দামেই সে বেচুক অনেকেই কিনবে। এই যে সাধারণ মানুষগুলার সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে অধিক লাভ হাসিল করছেন তবে আপনি কি মানবতার অবক্ষয় ঘটাচ্ছেন না। যখন কোনো কিছুর চাহিদা সামান্যতম বেড়ে যায় তখনই সে জিনিসের দাম অধিক হারে বেড়ে যায়। শুধু তাই নয় করবিহীন দ্রব্য আমদানি করে সেটা বিভিন্ন দামে বিক্রি করছেন অনেক বিক্রেতা। মেয়াদ উত্তীর্ণ জিনিস বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। এমন অসাধু ব্যবসায়ীদের আপনারা কী বলে আখ্যা দিবেন? শিক্ষার অভাব, পরিবারের শিক্ষার অভাব, সুশিক্ষার অভাব, ইত্যাদি আরো কত কিছু। ধরে নিলাম সুশিক্ষার অভাব। এই সুশিক্ষাটাতো আপনা থেকেই আসে। এটা নির্ভর করে আপনার অর্জিত জ্ঞান এবং চালচলনের উপর। পরিবারের শিক্ষাটাও জরুরী। পরিবার থেকে ভালো শিক্ষা না পেলেও যখন পরিণত বয়সে উপনিত হয় তখন সে ভালো মন্দের তফাতটা উপলব্ধি করতে পারে। তখন সে নিজেই ঠিক করে সে পথে নিজেকে নিবে। মানবতাবোধটাও আপনা থেকেই আসবে। যখন সে সেটার অবক্ষয় ঘটাবে তার সৃষ্ট কোনো কর্ম দ্বারা তখন সে আর মানুষের পর্যায়ে পড়বে না। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের এমন অশুভ মহামারীর সময় ব্যবসায়ীদের এমন মূল্যবোধের অবক্ষয়কে ভালো চোখে দেখার কোনো উপায় নেই। মানুষ মানুষের জন্য এই কথাটা যখন মনে প্রাণে সবাই বিশ্বাস করবে তখনই সে মানবতাবোধের অধিকারি হবে। আরেকটা কথা আপনি কার সাথে কী করছেন তার জন্য দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে। আপনার দায়ভার অন্য কেউ নিবেনা। আর আপনি যার সাথে যেমন করবেন প্রকৃতি আপনার প্রতিশোধ ঠিক অমন কোনোভাবেই নিয়ে নিবে। তাই আমরা যথাসাধ্য মানবধর্মের প্রতি বিশ্বাস রেখে যাবতীয় কুকর্ম থেকে নিজেদের বিরত রেখে মানবতা রক্ষা করি।

লেখক-
শিক্ষার্থী,
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,
সদস্য,
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৪৭১,৭৩৯
সুস্থ
৩৮৮,৩৭৯
মৃত্যু
৬,৭৪৮
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৩১৬
সুস্থ
২,৫৯৩
মৃত্যু
৩৫
স্পন্সর: একতা হোস্ট
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব